বিবর্তনের পথ ধরে

বন্যা আহমেদ

০২. পা ওয়ালা মাছের ডাঙ্গায় উঠে আসা

পা ওয়ালা মাছের ডাঙ্গায় উঠে আসা

প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে প্রাণীজগতের বিবর্তনের ইতিহাসে। যেনাে এক বিপ্লব ঘটে গেলাে। প্রায় একশাে কোটি বছর আগে পৃথিবীর মাটিতে আদি কোষী জীবের অস্তিত্ব দেখা গেলেও তা শুধু বিভিন্ন ধরণের সরল প্রকৃতির জীবাণুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলাে। ৪৭-৫৫ কোটি বছর আগে প্রথমবারের মত পৃথিবীর মাটিতে আদি উদ্ভিদ এবং ফার্নের অস্তিত্ব দেখা দেয় কিন্তু তখনও প্রাণীর বিকাশ সীমাবদ্ধ ছিলাে শুধুমাত্র জলেই, ডাঙ্গায় উঠে আসার আয়ােজন আসলে শুরু হয়েছিলাে তারও অনেক পরে [৫]

ফসিল রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে, প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে ডেভােনিয়ান যুগে জল থেকে ডাঙ্গায় প্রাণীর বিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ডেভােনিয়ান যুগটি ছিলাে খরার যুগ, পানির উচ্চতা কমে আসছিলাে তখন পুকুর, নদী, সমুদ্রে। আর এ সময়েই এক ধরণের মাংসল পিন্ডের মত পাখনা বিশিষ্ট (Lobe Finned Fish বলা হয় এদেরকে, Lungfish এবং Coelocanth উভয়েই এই দলের অন্তর্ভুক্ত; আর এখন আমরা যে আধুনিক মাছ দেখি তার বেশীর ভাগই ছড়ানাে পাখা বিশিষ্ট মাছের উত্তরসুরী যাদেরকে বলে Ray Finned Fish) এক ধরণের মাছের বিবর্তন ঘটে, তাদের এই মাংসল পাখনার সাথে চতুষ্পদী প্রাণীর হাত পা’র প্রচুর মিল রয়েছে।

ফুলকার সাহায্যেই বেশীর ভাগ সময় শ্বাস প্রশ্বাস চালালেও ফুসফুসের সাহায্যে তারা আবার মুক্ত অক্সিজেন গ্রহণ করতেও সক্ষম ছিলাে। অর্থাৎ ডেভােনিয়ান যুগের খরার সময় তাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলাে অল্প পানিতে বা পানির মাঝখানের শুকনােয় চলে ফিরে বেড়াতে সাহায্য করতাে [৬]। আর ওদিকে খরা যত বাড়তে থাকলাে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের নিয়মেই, ততই এ ধরণের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণীগুলােই টিকে থাকার জন্য বিশেষ সুবিধা পেতে থাকলাে। অদ্ভুত ব্যাপার হলাে, ডাঙ্গায় উঠে আসার জন্য কিন্তু চতুষ্পদী প্রাণীর মধ্যে হাত পার উদ্ভব ঘটেনি, এর বিবর্তন ঘটেছিলাে ক্ষরার সময় পানিতে টিকে থাকার জন্য, যা পরবর্তীতে তাদেরকে ডাঙ্গার জীবনে অভিযােজিত হতে সাহায্য করেছিলাে।

একই ধরণের ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করেছিলাম পাখা এবং পালকের বিবর্তনের ক্ষেত্রেও, উড়ার জন্য তাদের পালকের উৎপত্তি ঘটেনি, কিন্তু পরবর্তীতে তাই ডায়নােসরদের উড়তে সাহায্য করেছিলাে। অনেকে মনে করেন যে, ডেভােনিয়ান যুগে মাটিতে উদ্ভিদের ব্যাপক বিকাশও সাহায্য করেছিলাে প্রাণীদেরকে মাটিতে উঠে আসতে। পানির ধারে মাটিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ এবং তাদের পানিতে ছড়িয়ে থাকা মূলগুলো বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য হিসেবে কাজ করেছিলাে।

সে যাই হােক, বিজ্ঞানীরা মাছ থেকে উভচর প্রাণীতে রূপান্তরের এই ধীর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের প্রাণীরই ফসিল খুঁজে পেয়েছেন। ১৯৩৮ সালে আফ্রিকার মাদাগাস্কারের উপকূল এলাকায় এমন এক জীবন্ত মাছ । (Laimeria Chalumnae) ধরা পড়ে যাকে ৭-৮ কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হত।

Latimeria-chalumnae
চিত্র ৮.৬; মাছ এবং উভচর প্রাণীর মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মাছঃ Coelacanth: Laimeria Chalumnae.

এর মধ্যে মাছ থেকে উভচর প্রাণীর বিবর্তনের এতগুলাে মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান যে, একে যেনাে রীতিমত এক জীবন্ত ফসিল’ই বলা যায়। অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বিজ্ঞানীরা এই মিসিং লিঙ্কটিকে অতীতের সময় পড়ার যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মাংসল পাখনাবিশিষ্ট এই মাছ ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, আর তারা অন্যান্য মাছের মত ডিম পারে না, সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে। পরবর্তীতে এই প্রজাতির আরও বেশ কিছু মাছই ধরা পড়েছে।

আগেই বলেছিলাম যে, দুই ধরণের মাংসল পাখনা বা লােব ফিনযুক্ত মাছ রয়েছেঃ কোলাকান্থ (Coelocanth) এবং লাং ফিশ (Lungfish)। এদের দুই গােত্রের মধ্যেই মাছ থেকে উভচরে পরিণত হওয়ার মধ্যবর্তী ফসিল পাওয়া গেলেও বিজ্ঞানীরা আধুনিক অনুজীববিদ্যার পরীক্ষার ফলাফল থেকে এখন মনে করেন যে আজকের চতুষ্পদী প্রাণীগুলাে আসলে লাং ফিস থেকেই বিবর্তিত হয়েছিলাে । লাং ফিস থেকে উভচরে উত্তরণের এই দীর্ঘ বিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্যবর্তী ধাপগুলাের প্রতিনিধিত্ব করে এমন বহু ফসিলের অস্তিতই খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বেশীর ভাগ মাছের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন Eusthenopteron থেকে শুরু করে, অর্ধেক পানি অর্ধেক মাটিতে বাস করা Acanthostega’র মত চতুষ্পদী প্রাণী কিংবা তার পরবর্তী ধাপের আদি উভচর (Amphibian) প্রাণী পর্যন্ত সবারই ফসিল খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা (চিত্র ৮.৭-এ বিবর্তনের ধাপগুলাে দেখুন)।

The-Origin-of-Tetrapods
চিত্র ৮.৭: মাছ থেকে ডাঙায় প্রাণীর বিবর্তনের বিভিন্ন স্তর

এই Acanthostega র বিড়াল বা টিকটিকির মত দিব্যি চার পায়ের অস্তিত্ব থাকলেও তখনও তার মধ্যে ফুলকা এবং সাতার কাটার জন্য প্রয়ােজনীয় মাছের মত লেজটি রয়ে গেছে। এখান থেকে স্পষ্টই দেখা যায় যে, চতুষ্পদী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যগুলাে ডাঙ্গায় উঠে আসার জন্য আলাদাভাবে তৈরি হয়নি, তাদের বিবর্তন ঘটেছিলাে অনেক আগেই পানিতেই। ধাপে ধাপে ঘটা এই রূপান্তরের এতগুলাে ধারাবাহিক ফসিল পাওয়া গেছে যে প্রাণীর বিবর্তনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়টি নিয়ে অনেকদিন ধরেই সন্দেহের কোন আবকাশই নেই। ফসিলবিদ্যার জগতে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ধীর গতিতে কোটি কোটি বছরের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিবর্তনের চিত্রটির এত চমৎকার প্রতিফলন খুব কমই পাওয়া যায়।

তবে গল্পের তাে এখানেই শেষ নয়, খুব সাম্প্রতিক একটা আবিষ্কারের কথা না উল্লেখ করলে গল্পটা হয়তাে শেষ হয়েও ঠিক পুরােপুরি শেষ হবে না। এই তাে কিছুদিন আগে ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে কানাডার উত্তর মেরুতে এমনি এক মধ্যবর্তী ফসিল বা মিসিং লিঙ্কের সন্ধান পাওয়া গেছে যা মাছ থেকে উভচর প্রাণীতে বিবর্তিত হওয়ার ধারাবাহিকতার ছকটিকে যেনাে আরও পূর্ণ করে তুলেছে। কানাডার এই

পা ওয়ালা মাছের ডাঙ্গা
চিত্র ৮.৮: পানির মাছ থেকে মাটিতে চড়ে বেড়ানাে প্রাণীর বিবর্তনের হাতে আঁকা চিত্র। মাঝখানে রয়েছে সদ্য আবিষ্কৃত টিকটালিকের ছবি যা খুব পরিস্কারভাবে মাছ এবং উভচর প্রাণীর মধ্যবর্তী অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে।

অঞ্চলের আদিবাসীরা অনেকটা কুমীরের মত দেখতে চার পাওয়ালা এই মাছটির নাম দিয়েছেন টিকটালিক (Tiktaalik roseae) [৭]। প্রায় সাড়ে ৩৭ কোটি বছর আগের এই প্রাণীটির মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে। মাছের মত পাখনা, আদি চোয়াল এবং আঁশ, আবার অন্যদিকে আছে চতুষ্পদী প্রাণীর মত করােটি, ঘাড়,পাঁজড়ের হাড় এবং আংশিক হাত পায়ের অস্তিত্ব! ডেভােনিয়ান যুগের মাছ Pandericthys, যার মধ্যে সবে অল্প কিছু চতুষ্পদী প্রাণীর বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে শুরু করেছে এবং তখনও কিছু মাছের মত বৈশিষ্ট্য রয়ে গেছে এমন আদি চতুষ্পদী প্রাণী Acanthostega (চিত্র ৮.৮-এ মাছ থেকে ডাঙ্গায় প্রাণীর বিবর্তনের ছবিটিতে দেখুন) এর মধ্যবর্তী এক অবস্থার প্রাণী এই টিকটালিক [৮]

ফসিলের অবস্থান এবং গঠন দেখে বােঝা যাচ্ছে যে, এরা খুবই অল্প পানিতে অথবা কখনও কখনও এমনকি অল্প সময়ের জন্য শুকনাে মাটিতেও বেঁচে থাকতে পারতাে। পানি থেকে মাটিতে উঠে আসার ফলে তাদের উপর যে বাড়তি মাধ্যাকর্ষন শক্তির চাপ পড়ে তা সামাল দিতে গিয়ে তাদের পাঁজরের হাড়েরও পরিবর্তন ঘটেছে। আবার পানিতে বাস করা মাছের কোন ঘাড় বা গলা থাকে না, তারা সমস্ত শরীর দিয়ে সােজা এগিয়ে গিয়ে শিকার করে। কিন্তু মাটিতে বাস করা চতুষ্পদী প্রাণীদের বেশীরভাগেরই নমনীয় ধরনের গলা এবং ঘাড় থাকে, বাকী শরীরের সাহায্য ছাড়াই সে তার মাথা এবং ঘাড় স্বাধীনভাবে নাড়াতে পারে।

চিত্র ৮.৯ : সদ্য পাওয়া টিকটালিকের এই ফসিলের নমুনাগুলাে এত ভালােভাবে সংরক্ষিত ছিলাে যে এদের থেকে বিজ্ঞানীরা তাদের গঠন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য আবিষ্কার করতে পেরেছেন। সাধারণত এত পুরনাে আমলের ফসিল্পলাে শিলাস্তরের চাপে চ্যাপটা হয়ে যায়, এরা কিন্তু তা হয়নি, এদেরকে ত্রিমাত্রিক অবস্থায়ই পাওয়া গেছে।
চিত্র ৮.৯ : সদ্য পাওয়া টিকটালিকের এই ফসিলের নমুনাগুলাে এত ভালােভাবে সংরক্ষিত ছিলাে যে এদের থেকে বিজ্ঞানীরা তাদের গঠন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্য আবিষ্কার করতে পেরেছেন। সাধারণত এত পুরনাে আমলের ফসিল্পলাে শিলাস্তরের চাপে চ্যাপটা হয়ে যায়, এরা কিন্তু তা হয়নি, এদেরকে ত্রিমাত্রিক অবস্থায়ই পাওয়া গেছে।

টিকটালিকের মধ্যেও এধরণের গলার অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে যা দিয়ে সে সহজেই তার মাথা ঘুরাতে সক্ষম হতাে। এত চমৎকার একটি মধ্যবর্তী অবস্থার ফসিল খুঁজে পেয়ে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাদের মতে, এই ধরণের ফসিলগুলাে মাছ থেকে ডাঙ্গার চতুষ্পদী প্রাণীর বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে এক বিশেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইউনিভারসিটি অফ শিকাগাের জীববিদ্যা বিভাগের প্রধান নীল শুবিনের মতে, শারীরিক গঠন এবং জীবনযাত্রার দিক থেকে বিচার করলে এই প্রাণীর মধ্যে এমনই সব মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য দেখা যায় যে তা দিয়ে আজকের দিনের মাছ এবং উভচরের মধ্যে পার্থক্যগুলাে যেনাে বিলীন হয়ে যায় [৮]

স্থলচর প্রাণীর বিবর্তনের এর পরের একটা বড় ধাপ হচ্ছে আবরণ বিশিষ্ট ডিম ধারণকারী সরীসৃপের উদ্ভব। আসলে সরীসৃপ, পাখি, এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সবাই এই গােত্রের অন্তর্ভুক্ত, এরা উভচরের মত জীবনের প্রথম ধাপে পানিতে ফিরে যায় না। উভচর এবং সরীসৃপের মাঝমাঝি অবস্থার এবং আদি সরীসৃপেরও বহু ফসিল পাওয়া গেছে, যা দিয়ে উভচর থেকে সরীসৃপের উৎপত্তির ধাপগুলাে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারপর সেই ৩৫ কোটি বছর আগের কার্বোনিফেরাস যুগ থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের টারশিয়ারি যুগের শুরু পর্যন্ত পৃথিবী জোড়া চলতে থাকে জলচর এবং স্থলচর সরীসৃপদের একক আধিপত্য [৫]

প্রায় ২০ কোটি বছর আগে সরীসৃপ থেকে স্তন্যপায়ী জীবের বিবর্তন ঘটতে শুরু করলেও সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে ডায়নােসরের বিলুপ্তির আগে পর্যন্ত তাদের তেমন একটা বিকাশ ঘটতে দেখা যায়নি। প্রায় ১০ কোটি বছর ধরে তাদের ধীর রূপান্তর ঘটতে থাকে, এই সময়ে বিভিন্ন । ধরণের মধ্যবর্তী স্তরের ‘সরীসৃপ জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীর ফসিলের সন্ধান পাওয়া যায়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিবর্তনের পর্যায়ক্রমিক সবগুলাে ধাপেরই বহু ফসিল খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ব্যাপারটি এতখানিই সুপ্রতিষ্ঠিত যে এখানে আর তা নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলােচনা করার প্রয়ােজন বােধ করছি না।


 বিবর্তনের পথ ধরে


৫.↑  Ridley M, 2004, Evolution, Blackwell Publishing Company; USA, UK, Australlia, pp. 538-542

৬.↑  Berra TM, 1990, Evolution and the Myth of Creationism, Stanford University Press, Stanford, California, pp 84-87.

৭.↑  Harvard University Gazette: April 6, 2006 edition. http://www.news.harvard.edu/gazette/2006/04.06/09-missinglink.html

৮.↑  Natural History Museum, London, England. http://www.nhm.ac.uk/about-us/news/2006/apr/news_7948.html

 

শেয়ার করুন —
5 3 votes
Post Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
মন্তব্য করুনx
()
x
Scroll to Top
১ম অধ্যায়

২য় অধ্যায়

৩য় অধ্যায়

৪র্থ অধ্যায়

৫ম অধ্যায়

৬ষ্ঠ অধ্যায়

৭ম অধ্যায়

৮ম অধ্যায়

৯ম অধ্যায়

১০ম অধ্যায়

১১ম অধ্যায়

পরিশিষ্ট
রঙ্গীন প্লেট

বিবর্তন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো

গ্রন্থ আলোচনা