অপ্সরা থিয়েটারের মামলা

সত্যজিৎ রায়

০২. অপ্সরা থিয়েটার

অন্সরা থিয়েটারে পৌঁছে দেখি লালমোহনবাবু অপেক্ষা করছেন।

কী ব্যাপার মশাই? ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন।

আজি কাগজ দেখেননি?

দেখেছি বইকী। মহীতোষ রায় তো হাওয়া।

হাওয়া কেন, বোধহয় খতম।

সংক্ষেপে লালমোহনবাবুকে সকালের ঘটনাটা বলে দিল ফেলুদা।

তা হলে এখন কি আমরা থিয়েটারে তদন্ত চালাব?

একবার অন্তত ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলি।

আমরা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম, এবার গিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। গেটে দারোয়ান বলল ম্যানেজারের নাম কৈলাস বাড়ুজ্যে। তিনি তাঁর অফিসেই আছেন।

ম্যানেজারের আপিসে পৌঁছতে গেলে একটা ঘর পেরোতে হয়। সেখানে একজন ভদ্রলোক একটা টেবিলের সামনে বসে কাগজপত্র ঘটিছিলেন, জিজ্ঞেস করলেন। আমাদের কী দরকার।

ফেলুদা এবার তার একটা কার্ড বের করে ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে বলল, একবার যদি কৈলাসবাবুর সঙ্গে দেখা করতে পারি।

ভদ্রলোক আমাদের অপেক্ষা করতে বলে গেলেন ভিতরের দিকে। মিনিটখানেক পরে বেরিয়ে এসে বললেন, আপনারা আসতে পারেন।

আমরা তিনজনে গিয়ে ম্যানেজারের ঘরে ঢুকলাম। বেঁটে, মোটা, কালো ভদ্রলোক। নাকের নীচে একটা সরু গোঁফ, বয়স আন্দাজ পঞ্চাশ। বললেন, আপনার নাম তো শুনেছি, কিন্তু হঠাৎ আমার এখানে আসার প্রয়োজন হল কেন সেইটেই ভাবছি।

ফেলুদা বলল, আপনার একজন অভিনেতা সম্বন্ধে কিছু জানার ছিল নিখোঁজ।

মহীতোষের কথা বলছেন? সে ব্যাপারে তো পুলিশ এসে এক দফা এনকোয়ারি করে গেছে।

ভদ্রলোক আমার কাছে এসেছিলেন। কতকগুলো হুমকি চিঠি পেয়েছিলেন সেই নিয়ে আমার পরামর্শ নিতে।

হুমকি চিঠি? তা হলে কি ও খুন হয়েছে নাকি? আমি তো ভাবলাম পাওনাদারের কাছ থেকে গা ঢাকা দিয়েছে।

না। ঠিক সেরকম মনে হচ্ছে না।

অবিশ্যি ও গিয়ে যে আমাদের একটা খুব বড় রকম ক্ষতি হয়েছে তা বলতে পারছি না। প্রশান্ত মোটামুটি চালিয়ে নিচ্ছে! পুলিশ কালকেই এসেছিল। আমরা বিশেষ কোনও ইনফরমেশন দিতে পারিনি। মহীতোষ একটু চাপা টাইপের চরিত্র ছিল। ওর কারুর সঙ্গে খুব একটা মাখামাখি ছিল না। অভিনয়টা মোটামুটি ভালই করত। তবে ওর ইচ্ছে ছিল প্ৰফুল্লতে মেন রোল করবার; সে ক্ষমতা ওর ছিল না।

ওঁর কোনও শত্রু ছিল না বলছেন?

বিলছি তো—শত্ৰুও না, বন্ধুও না।

জগন্ময় ভট্টাচাৰ্য বলে এককালে আপনাদের একজন অভিনেতা ছিলেন?

ছিল, কিন্তু তাকে তো অনেকদিন আগেই ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর জায়গাতেই মহীতোষকে নেওয়া হয়, তাই না?

তা বটে। এটা আপনি ঠিক বলেছেন, আমার খেয়াল হয়নি।

পুরনো ঠিকানা আছে, সে তো এখন সেখানে নাও থাকতে পারে।

কৈলাসবাবু একটা ঘণ্টা টিপলেন। পাশের ঘর থেকে একটি বছর পাঁচশ বয়সের ছেলে এসে দাঁড়াল।

এদের জগন্ময়ের ঠিকানাটা দিয়ে দাও তো।

এক মিনিটের মধ্যেই ঠিকানা এসে গেল। সাতাশ নম্বর নির্মল বোস স্ট্রিট। লালমোহনবাবু বললেন রাস্তাটা ওঁর জানা। আমরা উঠে পড়লাম।

নির্মল বোস স্ট্রিট শ্যামবাজারেরই একটা গলি। জগন্ময়বাবুর বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে খোঁজ করে জানলাম ভদ্রলোক এখনও সেখানেই আছেন। ফেলুদা চাকরের হাতে তার কার্ডটা পাঠিয়ে দিল। অল্পক্ষণের মধ্যেই আমাদের ডাক পড়ল। আমরা একটা তক্তপোশ পাতা ঘরে গিয়ে হাজির হলাম। তাতে একটি রোগা-রোগা কেন রুগণ বললেই বোধহয় ঠিক বলা হবে— ভদ্রলোক বসে আছেন। আমরা ঘরে ঢোকাতেও তিনি বসেই রইলেন।

হঠাৎ আমার সঙ্গে ডিটেকটিভের কী প্রয়োজন পড়ল?-ভদ্রলোকের প্রথম প্রশ্ন।

ফেলুদা বলল, আপনি কি মাহীতোষ রায় বলে একজন অভিনেতাকে চিনতেন?

চিনতুম বললে ভুল হবে। সে এল, আর আমি বরবাদ হয়ে গেলুম—এই চেনা। কিন্তু সে তো দেখছি উধাও হয়ে গেছে।

উধাও নয়, খুব সম্ভবত খুন হয়েছেন।

খুন? অবিশ্যি আমার তাতে বুক ফেটে কান্না আসবে তা নয়। সে আমার ভাত মেরেছিল, সেটাই হচ্ছে আমার কাছে সব চেয়ে বড় ট্রুথ।

তাঁর মৃত্যুর আগে মহীতোষবাবু কতকগুলো হুমকি চিঠি পেয়েছিলেন। সেই ব্যাপারে আপনি কোনও আলোকপাত করতে পারেন?

আমি চিঠিগুলো লিখেছিলাম। কিনা সেইটাই জানতে চাইছেন তো?

আপনার তার উপরে এখনও যথেষ্ট আক্রোশ আছে দেখছি।

সেটা আপনি কথাটা তুললেন বলে। মহীতোষ রায়ের ব্যাপার অতীতের ব্যাপার। এই নিয়ে আর আমি মাথা ঘামাই না। আমি তারপরে দীপ্তি থিয়েটারে কাজ পেয়ে যাই, এখনও সেখানেই আছি, যা পাচ্ছি। তাতে আমার চলে যায়। মদ ছেড়ে দিয়েছি। আমি সাতেও নেই, পাঁচেও নেই। কেবলমাত্র একটা সমস্যা আছে সে হল হিপের কষ্ট। এছাড়া আমি দিব্যি আছি। মহীতোষের কথা। আপনি মনে করিয়ে দিলেন বলে। নইলে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।

আপনি অন্সরা ছাড়ার পর মহীতোষবাবুর সঙ্গে আপনার দেখা হয়নি?

নো স্যার। একবারও না। এমনকী মঞ্চে পর্যন্ত ওকে দেখিনি। অন্সরা থিয়েটারে আমি যাই না।

এরপর তিন মাস কেটে গেছে; এর মধ্যে মহীতোষবাবুর কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তিনি যে আততায়ীর হাতে প্ৰাণ হারিয়েছেন তাতে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই। অপ্সরা থিয়েটারে আরেকবার যাওয়া হয়েছিল ওখানে যদি কোনও খবর থাকে জানিবার জন্য, কিন্তু তাতেও কোনও সুবিধা হয়নি। শুধু এই খবরটা পাওয়া গেছে যে মহীতোষ রায়ের জায়গায় আরেকজন অভিনেতা বহাল হয়েছে। এর নাম সুধেন্দু চক্রবর্তী। ইনি প্রফুল্লতে অভিনয় করছেন মহীতোষের জায়গায় এবং বেশ ভাল করছেন।

ফেলুদা এর মধ্যে মহীতোষ রায় সম্পর্কে আরও খবর নিয়েছে। ওঁর ছোট ভাই শিবতোষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে যে সে দাদার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখেনি।

ফেলুদা জিজ্ঞেস করল, আপনার দাদার সঙ্গে আপনার বিরোধের কারণ কি শুধু সম্পত্তি?

শিবতোষবাবু বললেন, তার বেশি আর কারণের দরকার আছে কি? দাদা বাবাকে খোশামোদ করতেন। আমি সে দিকে যাইনি। খোশামোদ আমার ধাতে নেই। ছোট ছেলে বলে। আমাকে সব সময় ছোট করে দেখা হয়েছে। বাবাও তাই করেছেন।–দাদা তো বটেই। তাই আমি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলাম। এতে বিরোধের সৃষ্টি হবে তাতে আর আশ্চর্য কী?

কথাগুলো শুনে আমার মনে হচ্ছিল শিবতোষবাবুর এখনও পুরোমাত্রায় আক্রোশ রয়েছে। দাদার উপর।

ফেলুদা বলল, আপনি মহীতোষবাবুর মৃত্যু সম্বন্ধে কোনও মন্তব্য করতে চান কি? এটা হয়তে আপনি বোঝেন যে তিনি যদি আততায়ীর হাতেই প্ৰাণ হারান, তা হলে সেই আততায়ী আপনি হওয়া কিছু আশ্চর্য নয়।

আমি গত পাঁচ বছর দাদার মুখ পর্যন্ত দেখিনি। তাঁর সঙ্গে আমার সমস্ত সম্পর্ক চুকে গিয়েছিল। আর তাঁর থিয়েটারের জীবনের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক ছিল না।

যেদিন মহীতোষবাবু নিখোঁজ হন সেদিন সন্ধ্যাবেল ছটা থেকে আটটার মধ্যে আপনি কী করছিলেন মনে পড়ে?

রোজ যা করি তাই করছিলাম; আমার বন্ধুদের সঙ্গে তাস খেলছিলাম।

কোথায়?

সর্দার শঙ্কর রোড। এগারো নম্বর। অনুপ সেনগুপ্তের বাড়ি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

ফেলুদা এটা চেক করার জন্যে সর্দার শঙ্কর রোডে শিবতোষবাবুর বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল। তিনি বলে দেন যে তাদের বাড়িতে রোজ তাসের আড্ডা হয় এবং শিবতোষবাবু নিয়মিত আসেন।

একটা বড় সাসপেক্টকে তাই ফেলুদাকে নাকচ করে দিতে হল।

পরদিন সকালে লালমোহনবাবু এসে বললেন, মশাই, এ কেসটা কোনও কোসই না। আপনি মিথ্যে এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। তার চেয়ে চলুন আমরা দিন চারেকের জন্য কোথাও ঘুরে আসি। আমারও মাথায় একটা প্লট আসছে বলে মনে হচ্ছে, আর আপনিও মাথাটা একটু সাফ করে নিতে পারবেন।

কোথায় যাবেন? ফেলুদা প্রশ্ন করল।

দিঘা গেলে কেমন হয়? ওটা তো এখনও দেখা হয়নি।

বেশ তাই হোক। আমারও মনে হয়। এ কেসটার কোনও নিম্পত্তি হবে না। মহীতোষের হত্যাকারী আইনের হাত থেকে পার পেয়ে যাবে।

আমরা পরদিনই দিঘা গিয়ে হাজির হলাম। টুরিস্ট লজে বুকিং ছিল, দিব্যি আরামে থাকা যাবে বলে মনে হল। আর তার উপর সমুদ্রে স্নান। লালমোহনবাবু একটা নতুন লাল সুইমিং কসট্যুম কিনে এনেছিলেন।

দিঘাতে কলকাতার খবরের কাগজ আসতে আসতে সন্ধে হয়ে যায়। তিনদিনের দিন আনন্দবাজারটা হাতে নিয়ে প্রথম পাতা দেখেই ফেলুদা প্রায় লাফিয়ে উঠল।

সর্বনেশে খবর।

কী ব্যাপার? লালমোহনবাবু আর আমি একসঙ্গে বলে উঠলাম।

অপ্সরা থিয়েটারের প্রধান অভিনেতা খুন! বলল ফেলুদা,এ কি আরম্ভ হয়েছে বল তো দেখি!

খবরটা পড়ে দেখলাম। বলেছে। অপ্সরা থিয়েটারের প্রধান অভিনেতা নেপাল লাহিড়ী দু দিন আগে থিয়েটারের পর ট্যাক্সিতে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে এক বন্ধুর বাড়িতে যাবেন বলে ট্যাক্সি থেকে নামেন। বন্ধুর বাড়ি একটা গলির মধ্যে। সেই গলিতেই তাকে ছোরা মেরে খুন করা হয়। পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা তদন্ত চালাচ্ছে। নেপালবাবুর স্ত্রী ও একটি বারো বছরের ছেলে আছে; তাঁরা এ-বিষয় কোনও আলোকপাত করতে পারেননি।

তা হলে কী হবে? লালমোহনবাবু প্রশ্ন করলেন।

তা হলে একবার আপনাকে যেতে হবে অপ্সরা থিয়েটারে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে।

কেন, আমাকে কেন?

কারণ আমার পা-টা আজ মচকেছে। সমুদ্রে স্নান করার সময়। কাল ভাল রকম ব্যথা হবে বলে মনে হচ্ছে।

তা হলে চলুন আজই ফেরা যাক। কলকাতায় গিয়ে চুন-হলুদ দিয়ে পা-টা বেঁধে ফেলবেন।

আপনি পারবেন তো আমার ভূমিকা নিতে?

তা অ্যাদ্দিন যখন আপনার সঙ্গে রয়েছি তখন কিছুটা জ্ঞানগম্মি তো হয়েইছে।

আমরা সেদিনই কলকাতায় ফিরে এলাম। কথা হল পরদিন সকাল নটায় লালমোহনবাবু আমাদের বাড়ি আসবেন, ফেলুদা তা৬কে কিছুটা তালিম দিয়ে দেবে, তারপর দশটা নাগাত আমরা দুজনে যাব অপ্সরা থিয়েটার।

পরদিন সকালে ফেলুদার কাছে তালিম নিয়ে আমরা ঠিক দশটায় পৌঁছে গেলাম অপ্সরা থিয়েটারে। লালমোহনবাবুর গদগদ ভাব, বললেন, আমার অনেকদিনের আপশোস ছিল যে তোমার দাদাকে আরেকটু সক্রিয় ভাবে সাহায্য করতে পারি না। এইবারে তার সুযোগ এসেছে। ভদ্রলোক আজ ধূতি পাঞ্জাবির বদলে প্যান্ট শার্ট পরে এসেছেন; বললেন এতে কাজটা অনেক চটপটে হয়।ওভারনাইট কার্ড ছাপিয়ে নিলুম আমার নামে, দেখতে কেমন হয়েছে।

কার্ড নিয়ে দেখি তাতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘লালমোহন গাঙ্গুলী, রাইটার।’

দিব্যি হয়েছে, আমি বললাম।

দারোয়ানের হাতে একটা কার্ড ম্যানেজারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হল, তিন মিনিটের মধ্যে আমাদের ডাক পড়ল।

কৈলাসবাবুকে দেখে মনেই হল না। আমাদের উনি চিনতে পেরেছেন। বেশ রুক্ষভাবেই বললেন, শুনুন, আমার এখানে এখন বিশেষ গোলমাল। আপনি যদি নতুন নাটক নিয়ে এসে থাকেন তো অন্য সময় হবে। এই কটা দিন বাদ দিন।

লালমোহনবাবু জিভ কেটে বললেন, নতুন নাটক নয়। স্যার; আমি এসেছি। প্রদোষ মিত্র প্রাইভেট ইনভেসটিগেটরের প্রতিভূ হয়ে। উনি অসুস্থ, তাই নিজে আসতে পারলেন না। উনি এর আগে মহীতোষ রায়ের ব্যাপারে একবার আপনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তখন আমিও এসেছিলাম ওঁর সঙ্গে।

হ্যাঁ–মনে পড়েছে। তা আপনি কী জানতে চাইছেন? খবরের কাগজে যা বেরিয়েছে তার বেশি কিছু বলার নেই।

একটা প্রশ্ন ছিল—নেপালবাবুও কি মহীতোষবাবুর মতো হুমকি চিঠি পেয়েছিলেন?

পেয়েছিল, তবে সে বিষয় প্রথম ক’দিন চেপে রেখেছিল। কোনও পাত্তা দেয়নি। তারপর তিনদিন আগে প্ৰথম আমাকে বলে। চিঠি পাচ্ছিল প্রায় দশদিন থেকে।

সে চিঠি আপনি দেখেছেন?

দু-তিনটে দেখেছি। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা। হুমকি চিঠি যেরকম হয় সেরকমই আরকী। আমি ওকে সাবধানে থাকতে বলি, কিন্তু নেপাল মঞ্চে হিরো সাজত বলে নিজেকেও একটা হিরো বলে মনে করত। সে বলে, এসব হুমকিতে আমি ঘাবড়াই না।

তিনি থাকতেন কোথায়?

নকুলেশ্বর ভট্টাচাৰ্য লেনে, সাতাশ নম্বর।

উনি কি বিবাহিত ছিলেন?

হ্যাঁ।

কাগজে লিখেছে উনি ওঁর এক বন্ধুর বাড়ি যাবেন বলে ট্যাক্সি থেকে নেমেছিলেন। এই বন্ধুটি কে আপনি জানেন?

গলিতে বাড়ি বলে যখন বলছে তখন শশধর চাটুজ্যে বলে মনে হয়। সেও অভিনেতা, রূপম থিয়েটারে অভিনয় করে।

অপ্সরা থিয়েটারে ওঁর কোনও শত্রু ছিল না?

সে আর আমি কী করে বলব বলুন। প্রধান অভিনেতাকে সকলেই ঈর্ষা করে। সে অর্থে শুধু আমাদের থিয়েটারে কেন, অন্য থিয়েটারেও নেপালের শত্রু ছিল। তাকে সরাতে পারলে আমার থিয়েটার কানা হয়ে যাবে এটা অনেকেই জানত।

আপনাদের থিয়েটার কি তা হলে এখন বন্ধ?

আজ প্রফুল্লর লাস্ট শো ছিল—সেটা আর হবে না। আমরা তো নতুন নাটক আলমগীর নামাব বলে তোড়জোড় করছিলাম। নাম ভূমিকায় তো নেপালেরই করার কথা ছিল। এখন অন্য অ্যাকটরকে ট্রাই করা হচ্ছে। একজন নতুন লোক এসেছে।

কেমন?

মন্দ নয় বোধহয়। দাড়ি গোঁফ নিয়ে আলমগীর সাজবার চেহারা নিয়ে চলে এসেছে। তার মেক-আপ লাগবে না।

এবার আমার একটা কথা মনে পড়ল। বললাম, এখানকার মেন অ্যাকটরদের বাড়ির ঠিকানাগুলো নিয়ে নিন। ফেলুদা হয়তো ওদের কারুর কারুর সঙ্গে কথা বলতে চাইবে।

হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছ, বললেন লালমোহনবাবু।

কৈলাসবাবুকে বলতে আবার ঘণ্টা টিপে ওর সেক্রেটারিকে আনিয়ে আমাদের সব নাম ঠিকানাগুলো আনিয়ে দিলেন।

যেই বন্ধুর বাড়িতে সেদিন নেপালবাবু যাচ্ছিলেন, তিনি কোথায় থাকেন বলতে পারেন?

কাগজে দেখেননি? খুনটা হয়েছে মতি মিস্ত্রি লেনে। কাজেই তিনিও সেখানেই থাকতেন।

আমরা ভদ্রলোককে আর বিরক্ত না করে উঠে পড়লাম। একবার মতি মিস্ত্রি লেনে শশধর। চাটুজ্যের বাড়ি যাওয়া দরকার।

 


অপ্সরা থিয়েটারের মামলা

শেয়ার করুন —
0 0 votes
Post Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
মন্তব্য করুনx
()
x
Scroll to Top